ধাবমান স্বপ্নের ধ্বনিত কলরব মোজাম্মেল হক

শৃঙ্খলার বাতায়নে ঘেরা, দক্ষ ব্যবস্থাপনায় মোড়া, আন্তঃশক্তির উদ্দিপনায় ভরা দৈনিক করতোয়ার এই যে এগিয়ে চলা; চলতে চলতেই বিয়াল্লিশে এসে পা বাড়িয়ে দেয়া- তার সবটুকু পথ জুড়ে ছিল গুচ্ছ গুচ্ছ স্বপ্নের পানে ধেয়ে ধেয়ে বেড়ানোর বেলা অবেলা। কেমন ছিল সেই স্বপ্ন? স্বপ্ন ছিল- শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকা এই জনপদের মানুষের কাছে নিরপেক্ষ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার আলোক রশ্মি জাগ্রত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পাঠকের মননকে শাণিত করা। স্বপ্ন ছিল- করতোয়া নদীর পাদদেশে গড়ে ওঠা পুন্ড্রবর্ধন নগর সভ্যতা থেকে পাওয়া পরিশীলিত সংস্কৃতির লাল-নীল দিপাবলী অত্র অঞ্চলের সর্বত্র সবখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়া। স্বপ্ন ছিল- কৃষি নির্ভর উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রস্থিত শিল্প শহর বগুড়াকে মূলধারার সাথে নত

অঙ্গিভূত করা। স্বপ্ন ছিল- মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত মূল্যবোধগুলোকে মানুষের মননে প্রোথিত করে গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে সুদূর ভূমিকা রাখা। স্বপ্ন চিরকাল অধরা- এ অর্থে যে, স্বপ্নের রয়েছে প্রসারিত ব্যাপ্তি। একটি পূরণে একাধিকের বিস্তার। অনন্তের এই সত্যকে মেনে নিয়েই নড়বড়ে জমিনে থর থর স্বপ্ন নিয়ে পথচলা করতোয়ার। বাবুই পাখির মত খড়কুটো নিয়ে শুরু হয়েছিল এই দৈনিক। অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা, বৃষ্টি বাদল পাড়ি দিয়ে করতোয়া এখন প্রবাহিত সত্য।
প্রাকৃতিক সংগঠনকে ডিঙিয়ে সামাজিক সংগঠনের জয়গানে মুখরিত, উত্তর জনপদের বিশাল বিস্তৃত পরিসর ডিঙিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অধিষ্ঠিত। নিরপেক্ষ সম্পাদকীয় নীতিমালার আলোকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন আর প্রযুক্তির অভাবনীয় উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আধুুনিক সংবাদপত্রের কাতারে জায়গা করে নিয়েছে দৈনিক করতোয়া। পেশাগত সাংবাদিকতাকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূলে আধো আলো-আধো ছায়ায় জোনাকীর মত জ্বলছেন তাঁরা।

জানিয়ে দিচ্ছেন সামাজিক অনাচার, অনিয়ম আর অসঙ্গতির নানা খবর। পাঠক তাদের লিখনি পড়ছেন, আলোচনা করছেন, একত্রিত হচ্ছেন। বৃদ্ধি পাচ্ছে, সামাজিক সচেতনতা। সচেতন প্রয়াসের সাথে জড়িয়ে থাকা সারা উত্তরাঞ্চলের শত সহস্র হকার আর এজেন্টরাও হয়ে পড়ছেন পাঠকের অংশ; দৈনিকের শক্তি। অভিন্ন সামাজিকায়নে বিকাশমান এই সম্পর্ক বিজয়ের রাতের অসংখ্য আলোর কম্পমান শিখার মত জীবন থেকে জীবনে ছড়িয়ে পড়ছে।
ভিন্ন ভিন্ন জীবনের এই সম্মিলন পাঠকের চেতনার স্তরে স্তরে মর্মরিত হয়ে ছুঁয়ে দিতে চাইছে স্বপ্নের প্রান্তর। এভাবেই স্বপ্নের পর স্বপ্ন পূরণের প্রবাহমান ধারায় বিয়াল্লিশে পা রাখবার এই শুভক্ষণে দৈনিক করতোয়া, তার হাসি কান্নার সমস্ত কান্নাগুলিকে নিজস্বতার নিলয়ে আত্মীকরণ করে রাশি-রাশি হাসিগুলিকে বিলিয়ে দিতে চাইছে অসংখ্য অগণন পাঠক, লেখক, শুভাকাঙ্খি, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা আর এজেন্ট, হকারদের মাঝে। দৈনিকটি শুধু তার স্বপ্নছোঁয়া অহংটুকুকে ধারণ করে রাখতে চায়।

আগের মতই সকল শ্রেণি পেশার মানুষের ভালোবাসা নিয়ে গণমানুষের পত্রিকা হয়ে উঠবার ক্ষেত্রে দৈনিক করতোয়া সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, এই প্রত্যাশাই পরিপূর্ণতা পাক। আগামি মঙ্গলবার রক্তস্নাত শোকাবহ ১৫ আগস্ট- জাতীয় শোক দিবস। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী। এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের মাধ্যমে যারা নবীন রাষ্ট্রটির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চেয়েছিল, তারা নিক্ষিপ্ত হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। তবু এই বিয়োগান্ত ঘটনায় জাতির অস্তিত্ব ও মননে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনো পুরো উপশম করা সম্ভব হয়নি। তার শাহাদতবার্ষিকীতে চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধুর অমর স্মৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও অভিবাদন। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার-পরিজনসহ ১৫ আগষ্টে নিহত সবার স্মৃতির প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই, সবার আত্মার শান্তি কামনা করি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *